
বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশের টানে নিজ মাতৃভূমি মিঠামইনে ফিরে এসেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এই বিএনপি নেতা।
কিশোর বয়স থেকে বিএনপির রাজনীতিতে নিয়োজিত রেখেছেন।
নিজের দলীয় পরিচয় দিতে গিয়ে আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আমি যখন কিশোর, যুবক, তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন। এমনকি বিএনপির পূর্বে যে জাগদল গঠন করেন সেটাও আমার মনে আছে।
তিনি জানান, ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় কিশোর বয়সে তিনি ইউনিয়ন ভিত্তিককিশোরদের কিশোরদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার যখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, তখনকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ফরিদুল খোদা জনসভায় তাকে দিয়ে কবিতা পাঠ করানো হয়েছিল।
আশির দশকে যখন কিশোরগঞ্জের এই অঞ্চলে বিএনপি করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না, অনেকেই জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তিনি কয়েকজন সমবয়সী বন্ধুকে নিয়ে ছাত্র সংগঠন হিসেবে দলকে ধরে রেখেছিলেন। ফলে একের পর
তার রাজনৈতিক পদ পদবী বাড়তে থাকে।
তিনি ওইসব পদ পদবী ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন
১৯৯০ সালে ঘাগড়া ইউনিয়ন এতগুলো সভাপতি ১৯৯১ যুব দলের সভাপতি,
১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠনের পর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি,
১৯৯২ সালে মিঠামইন উপজেলার প্রথম যুবদল কমিটির সাধারণ সম্পাদক,
১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্দেশে মিঠামইন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক,
১৯৯৭ সালে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, কোনো পদই আমি চেয়ে নিইনি, দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।
২০০১ সালে তিনি জীবিকার তাগিদে গ্রিসে পাড়ি জমান। সেখানেও তিনি বিএনপির রাজনীতি সক্রিয় রাখেন।
প্রথমে গ্রিস বিএনপির সদস্য
২০০৬ সালের ১৪ জুন তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক,
২০১১ সালে গ্রিস বিএনপির সহ-সভাপতি,
২০১৪ সালের ১ জুন ২৪৬ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রিস বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।২০২২ সালে কেন্দ্রে কর্তৃক গ্রীস বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে নিজের শিকড়ের টানে দেশে ফিরেছেন জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর বলেন, এখন তিনি সরাসরি নিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চান। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার এই ঘোষণায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও প্রবাসে থেকেও দলের জন্য নিবেদিত এই নেতার দেশে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।





