![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১, ২০২৬, ১:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১২:৩৬ পি.এম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: রাজিয়াকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজিয়া সুলতানাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিহত জিসানের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক ছিলেন।
মামলার এজাহারে রাজিয়া সুলতানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী কাইছার হামিদ বলেন, ‘এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।’
যেভাবে তুলে নেওয়া হয় জিসানকে
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়ার কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
এর প্রায় চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রদলের
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, ‘জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে চকরিয়ার রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
এদিকে মামলা দায়েরের পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘মামলা রুজু হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.