পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে মৎস্যজীবী জেলেদের জন্য সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত মৎস্য চাল বিতরণ নিয়ে চলছে চালবাজি। অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ননের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ বিপ্লব মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মেজবাহউদ্দিন এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল রবিবার অনুসন্ধান করে মৎস্য অফিস সূত্রে জানাযায় ১০৮১ জন জেলেদের নামের তালিকা হয়। এখানে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে ২ মাসের ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিলে এই চালকে অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে নামে বেনামে তালিকা করে ২১৬২ জনকে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দূর্নীতি এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন সকলের। এছাড়া এই চাল বিতরণ কালে প্রতি জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভুক্তভোগী জেলেরা।এনিয়ে স্থানীয় জেলেদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করাও হয় এবং অর্থ না দিলে তালিকায় নাম থাকলেও চাল দেয়া হয়না। অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন নিবন্ধিত জেলে কার্ড থাকা জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিয়েও তাদেরকে চাল দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জেলেরা জানান সংরক্ষিত ৪.৫.ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য মোসাঃ আসমা বেগম এর স্বামী মোঃ বাবুল মিয়া চাল বিতরণ খরচ বাবদ ১০০ টাকা সংগ্রহ করেন। এছাড়াও ৭.৮.ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পারভিন বেগম ও ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল খান সহ অন্য অন্য ওয়ার্ড থেকেও একই ভাবে টাকা সংগ্রহ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা বলেন টাকা না দিলে জেলেদের নামের তালিকায় নাম থাকলেও চাল দেয়া হয়না। টাকা দিলেই চাল মিলে।
এই অভিযোগ বিষয়ে ইউপি সদস্য আসমা বেগমমের স্বামী মোঃ বাবুল মিয়াকে মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি জানান চাল বিতরণের খরচ বাবদ টাকা নেয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মেজবাহ উদ্দিন হাওলাদার এর নির্দেশনায় নেয়া হয়েছে বলে জানান। এবিষয়ে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মেজবাহ উদ্দিন হাওলাদার বলেন জেলেদের জন্য সরকার কতৃক বরাদ্দ কৃত চাল উপজেলা থেকে ট্রলার যোগে আনতে অনেক খরচ হয়। সরকারি ভাবে যে টাকা বরাদ্দ দেয় হয় তা দিয়ে খরচ সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বিপ্লব মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন এধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট টাকা তোলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা। এখানে জনসাধারণের প্রশ্ন রইলো তা হলে কি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এর স্বামী মোঃ বাবুল মিয়া চেয়ারম্যান মোঃ বিপ্লব মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন? এবিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আল আমিন মিয়া বলেন এই অর্থ বানিজ্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি গরীবের কাছ থেকে টাকা নেয়া ঠিক হয়নি। এই অর্থ প্যানেল ২ মেম্বার বিপ্লব মিয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার নির্দেশনাই হয়েছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই বিএনপির সভাপতির কথা বলা হয়েছে। এবিষয়টি নিয়ে মৎস্য চাল বিতরণ কালে ট্যাগ অফিসার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মামুন খান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সকাল ৮ টায় রওনা দিয়ে এখানে এসেছি কিছু খন আগে। তখন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জন- প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন মিয়া মেম্বার ১০০ টাকা করে নেয়ার বিষয়ে জানান। এবিষয়ে তাকে একটি লিখিত ভাবে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানানোর কথা বলা হয়েছে। এবং তিনি তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জানাবেন। সে তদন্ত করার জন্য যাকে দায়িত্ব দিবেন তার মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে যে দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।




