মিরপুর উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত ৪৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ৩১টি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চলছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিপুলসংখ্যক রোগীকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বহির্বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসকদের। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনাতেও জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে।
উপজেলার প্রায় কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মিরপুর উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চিকিৎসক সংকট চলতে থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নির্ভরতা বেশি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া শহরসহ দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বাড়ে।
তাদের দাবি, জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা গেলে উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে রোগীর চাপ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই শূন্য পদে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মিরপুরবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে আরও কার্যকর করবে।




