জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে যন্ত্রপাতি স্থাপন করার পর ও চালু হয়নি ICU

জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে যন্ত্রপাতি স্থাপন করার পর ও চালু হয়নি ICU. হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিইউতে রোগী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বেডের সঙ্গে ভেন্টিলেটর,রোগী পর্যবেক্ষণ মনিটর,অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, সাকশন মেশিনসহ নানা প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম সংযুক্ত রয়েছে। ধবধবে সাদা চাদরে সাজানো বেড ও উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও সেখানে এখনো কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। কক্ষজুড়ে নীরবতা আর অচল যন্ত্রপাতি যেন একটি অপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে বহু প্রতীক্ষিত এই ইউনিটটি বন্ধ পড়ে থাকায় জেলার গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি আইসিইউ ইউনিট সচল রাখতে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক,বিশেষ করে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনোলজিস্ট থাকা জরুরি।এসব জনবল ছাড়া আইসিইউ চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই, জয়পুরহাটবাসী মনে করে এই সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রযাপ্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে ICU চালুর ব্যবস্থা করলে জয়পুরহাট এর সাধারণ জনগণ উপকৃত হবেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত বেলায়েত’কে র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মে ২০২৬ইং তারিখ রাতে বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ বেলায়েত (৪০), পিতা-মোঃ নিজাম, সাং-চর লাঠিমারা, ৯নং ইউপি, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তগন পাশাপাশি বসবাস করে। তাদের মধ্যে গাছ কাটা নিয়ে অনেকদিন যাবত বিবাদ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গত ১০ মে ২০২৬ইং তারিখ পুনরায় তাদের মধ্যে গাছকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয় এবং অভিযুক্তগণ একত্রিত হয়ে বাদীর স্বামীকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। উপস্থিত সাক্ষীর ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলে অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তগণ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মে ২০২৬ইং তারিখ তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।