পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে টেকনাফে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকালে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে স্থলবন্দরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং এগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিআইপি উমর ফারুকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০ টায় টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। দেশের ৮ টি কৃষি প্রবণ জেলার ১১ টি উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণের ভার্সোয়ালি উদ্ভোধন ঘোষনা করেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃআব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সলাহউদ্দিন আহমদ স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং কৃষকদের হাতে প্রতীকীভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার -৪ উখিয়া টেকনাফ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার -২ মহেশখালী কুতুবদিয়া আসমের সাংসদ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ এমপি, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল এমপি, কক্সবাজার জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী,জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম, এবং ইমদাদুল হাফিজ নাদিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, টেকনাফসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সহজে এবং দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।”তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে এবং কৃষক কার্ড সেই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সুনির্দিষ্ট ডাটাবেইজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জানা যায়, প্রথম ধাপে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের কৃষকদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর। কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং দেশের কৃষিখাতকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।




