
ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে জালিয়াতি ও অনিয়ম বন্ধে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেলে ভূমির রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এতে ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও বিরোধ কমার পাশাপাশি জালিয়াতির সুযোগও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে সেবাপ্রার্থীদের জন্য নির্মিত আধুনিক বিশ্রামাগার ‘সেবা কুঞ্জ’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমির মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে রেকর্ডে ভুলের সুযোগ কমে আসবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও তথ্য সংরক্ষণ করা হলে সাধারণ মানুষ ভূমি সেবার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবাকে শতভাগ জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস প্রাঙ্গণে অবস্থান করলে অ্যাপটিতে সবুজ সংকেত এবং বাইরে থাকলে লাল সংকেত প্রদর্শিত হবে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নাগরিকদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
সেবাপ্রার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উপজেলা ভূমি অফিসে ‘সেবা কুঞ্জ’ নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যাতে অস্বস্তি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে অতীতে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে ভূমি মালিকদের দ্রুত, ন্যায়সংগত ও সততার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ডিজিটাল জরিপ
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাহাড়তলীতে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি জরিপ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন এই জরিপ পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূমির সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে। একই সঙ্গে ভূমি নিয়ে প্রতারণা, রেকর্ড জালিয়াতি ও বিরোধের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
হাটহাজারীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারীতে অগ্নিকাণ্ড, বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করেন।
পরে উপজেলার মির্জাপুরে ‘ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমনের চারা বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া পার্বতী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাদের অভিনন্দন জানান ভূমি প্রতিমন্ত্রী।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সেবাপ্রার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।




