
দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও তার চেয়েও বেশি সময় ধরে চলছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎহীন এই চরম ভোগান্তির মধ্যেও বিদ্যুৎ বিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
একসময় বলা হতো—”রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি, দেবার কিছু নাই। আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই।” কিন্তু বর্তমানে ভুক্তভোগীদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তারা বলছেন—”রিক্ত আমরা, নিঃস্ব আমরা, দেবার কিছু নাই। আছে শুধু লোডশেডিং, দিয়ে গেলাম তাই।”
জনসাধারণের অভিযোগ ও সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
খাম্বা আছে, বিদ্যুৎ নেই: দেশের প্রতিটি প্রান্তেই বিদ্যুৎহীন খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে খাম্বা হিসেবে। সংযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
ভূতুড়ে ও অস্বাভাবিক বিল: সেবা না বাড়লেও গত দুই মাসে বিদ্যুতের বিল বেড়েছে ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত। চরম এই ভোগান্তির মধ্যেও ভূতুড়ে বিল জমা দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে।
দায়বদ্ধতার অভাব: চরম দুর্ভোগ সত্ত্বেও সরকারের তরফ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান বা আশ্বাস মিলছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারকেও এই বিদ্যুৎহীন খাম্বা বিতর্কের জন্য “খাম্বা মন্ত্রী” বলে তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর পার হলেও একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি দেখে সাধারণ নাগরিকেরা এখন সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং রাজপথে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের নিরসন ও ভূতুড়ে বিল বন্ধের দাবিতে এখন জোরালো সোচ্চার জনতা।





