
পটুয়াখালী জেলা মৎস্যজীবী দলে দপ্তর সম্পাদক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জেলা কমিটির অনুমোদিত তালিকায় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. শহিদুল ইসলামের নাম থাকলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল জলিল। এমনকি তার স্বাক্ষরেই সদর উপজেলা, পৌর ও কুয়াকাটা পৌর মৎস্যজীবী দলের কমিটি বিলুপ্ত এবং জেলা কমিটির সদস্য রেজাউল চৌকিদারকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ জেলা কমিটির তালিকায় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে জলিলের নাম নেই। এছাড়া জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ধারা (৫)ও ধারা (৭) এর (খ) ১ ও ২ অনুসারে দলীয় কোন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা রয়েছে দলীয় স্থায়ী কমিটি ও দলের চেয়ারম্যানের কাছে তবে পটুয়াখালী জেলা মৎস্যজীবী দলের একজন নেতাকে কি ভাবে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করতে পারে এ নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে—দপ্তর সম্পাদক আসলে কে, শহিদুল নাকি জলিল?
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি একেএম শফিকুল ইসলাম (ভিপি শাহীন) ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম তালুকদারের নির্দেশে সদর উপজেলা, পৌর ও কুয়াকাটা পৌর মৎস্যজীবী দলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। একই সঙ্গে জেলা কমিটির সদস্য রেজাউল চৌকিদারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। দুটি বিজ্ঞপ্তিতেই জেলা মৎস্যজীবী দলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল জলিলের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।
কিন্তু জেলা মৎস্যজীবী দলের কমিটির তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম। কমিটিতে জলিলের নাম না থাকার পরও তিনি কীভাবে দপ্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনারা জেলা কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি বা কেন্দ্রে কথা বলুন।’ তবে কমিটিতে তার নাম না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
জেলা মৎস্যজীবী দলের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্র থেকে তাকে জেলা মৎস্যজীবী দলের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিক কোনো কাজে তাকে ডাকা হয় না। অ্যাডভোকেট জলিলকেও চেনেন না বলে দাবি করেন তিনি।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জেলা মৎস্যজীবী দলের বিভিন্ন দপ্তরের কাজ জলিলকে দিয়ে করানো হচ্ছে। বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্তিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমও তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।
শহিদুল বলেন, ‘রেজাউল চৌকিদারকে বহিষ্কার আর কমিটি ভাঙার বিষয়টি সহ যিনি দপ্তরের কাজ করছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। তার থেকে টাকা নিয়ে এই পদের সব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে কিছু ব্যক্তি দলের নাম ক্ষুণ্ন করছেন।’
অন্যদিকে জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য রেজাউল চৌকিদার বলেন, তাকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তার দাবি, যে ব্যক্তির স্বাক্ষরে তাকে বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, তিনি দলীয় বা জেলা কমিটির কেউ নন। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের জেলা কমিটি প্রথমে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট থাকলেও পরে ১০৫ সদস্য করা হয়েছে। ওই কমিটিতে তিনজন দপ্তর সম্পাদক রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ১০৫ সদস্যের অনুমোদিত কমিটির কপি চাইলে তিনি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করার কথা বলেন।
এ ছাড়া দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কারের ক্ষমতা এবং কমিটিতে একাধিক দপ্তর সম্পাদক থাকার বিষয়েও জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি একেএম শফিকুল ইসলাম (ভিপি শাহীন) বলেন, ‘এটা আমাদের দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে দলীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি। বাইরের কারও কাছে জবাবদিহি করতে আমি বাধ্য নই।’
ফলে অনুমোদিত কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম থাকার পরও জলিলের মাধ্যমে দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা, তার স্বাক্ষরে বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তির মতো সিদ্ধান্ত প্রকাশ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পটুয়াখালী জেলা মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়গুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন একাধিক নেতা কর্মীরা।
