দেবীগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি ৩২৫

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৩২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‎শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১১টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মচারীকে মারধর এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

‎এর আগে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিদর্শনকালে হামলার শিকার হন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ও তাঁর দেহরক্ষী আনসার সদস্য তৈয়াবুল ইসলাম।

‎শনিবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ চলছিল। “ভাউলাগঞ্জের জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলার কারণে জ্বালানি তেল বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না” – এমন খবর পেয়ে ইউএনও  তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান।

তিনি সেখানে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ফুয়েল কার্ডবিহীন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখতে পান। তিনি রেজিস্ট্রেশন ও ফুয়েল কার্ডবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের লাইন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিছু চালক লাইন ত্যাগ করে চলে যান।

‎এ সময় লাইনে থাকা এক মোটরসাইকেল আরোহীর ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ইউএনও। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু দূর থেকে একদল লোক মিছিলের মতো করে এসে ইউএনওর ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তৈয়াবুল ইসলাম নামের এক আনসার সদস্য আহত হন।

‎স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনওকে রক্ষা করে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে নিরাপদে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আহত আনসার সদস্যকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

‎দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইউএনও মহোদয় ও তাঁর দেহরক্ষীর উপর ঘামলার ঘটনায় মামলা রেকর্ডভূক্ত হয়েছে এবং  আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে”।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন