দেবীগঞ্জে ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে জীবিত মাত্র ৫০৫ চারা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দুই কিলোমিটার সড়কে ১ হাজার ৭০০টি গাছের চারা রোপণ প্রকল্পে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় রোপণ করা চারার মধ্যে সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫০৫টি জীবিত চারা। অধিকাংশ চারাই আগাছায় ঢাকা, অনেক চারার পাশে নেই সুরক্ষার খুঁটি। কোথাও আবার চারা না থাকলেও পড়ে থাকতে দেখা গেছে খুঁটি।

‎রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের সাপডাঙ্গা থেকে নীলাহাটি পর্যন্ত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব চিত্র দেখা যায়। দুই কিলোমিটার সড়কের উত্তর পাশে ২৫১টি এবং দক্ষিণ পাশে ২৫৪টি- মোট ৫০৫টি জীবিত চারা পাওয়া গেছে।
‎সড়কের বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণের চিহ্ন থাকলেও সেখানে চারার পরিবর্তে শুধু খুঁটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও খুঁটি পড়ে আছে, কিন্তু নেই কোনো চারা। আবার জীবিত থাকা অনেক চারাই আগাছায় ঢাকা এবং দীর্ঘদিনের অযত্নে রয়েছে। অনেক চারার পাশে সুরক্ষার জন্য খুঁটিও নেই।

‎জানা গেছে, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দুই কিলোমিটার সড়কে ১ হাজার ৭০০টি গাছের চারা রোপণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিটি চারা রোপণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩১১ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে চারার মূল্য, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, খুঁটি, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও রোপণ খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি না থাকায় অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণও ছোট চারাগুলোর ক্ষতির অন্যতম কারণ বলে জানান তারা।
‎স্থানীয় বাসিন্দা দয়াল চন্দ্র বলেন, “গাছগুলো রোপণ করে গেছে। এরপর কাউকে আর দেখিনি। অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। রাস্তা যেহেতু উন্মুক্ত স্থান, ছোট চারাগাছ রোপণ করা ঠিক হয়নি।”
‎অপর স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “চারাগুলো খুবই ছোট ও নিম্নমানের। নিজের বাড়িতে লাগানোর জন্যও কেউ এমন চারা কিনত না। ছোট চারা, দেখাশোনা নেই, বেড়া নেই – এভাবে চারাগাছ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

‎বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) দেবীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ও সাংবাদিক হরিশ রায় বলেন, “পরিচর্যা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। বৃক্ষরোপণ করে পরিচর্যা না করলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।”

‎এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা মো. শাকিল বলেন, “রোপণের পরে কেউ রাতের আঁধারে গাছগুলো ভেঙে দিচ্ছে। বর্তমানে ৬০০ থেকে ৭০০টি চারা হয়তো জীবিত আছে। নতুন করে মৃত চারার স্থানে চারা প্রতিস্থাপন করা হবে।”
‎রোপণের পর চারাগুলোর দেখাশোনার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে ওই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। শুধু জানান, ওই ব্যক্তির বাড়ি সোনাহারে।

‎পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চারা রোপণ করলেই একটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত হয় না। রোপণের পর নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, খুঁটি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে চারাগুলো রক্ষা করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন