দোহারে মাদকসেবনরত ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নারিশায় মাদকসেবনের অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির মেহেদী নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার নারিশা পশ্চিম চর পূর্বপাড়া এলাকায় জীবনের খামারের পানির ট্যাংকসংলগ্ন স্থানে ঘটনাটি ঘটে।
তবে অভিযোগটির বিষয়ে এসআই মেহেদীকে ফোন করলে, তিনি বলেন তিনি এক মহিলার অভিযোগে পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন এই বিষয়ে আমার সিনিয়রের সাথে কথা বলেন।
ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইদুল বলেন, আমি শুনেছি। বিস্তারিত জানি না। আমি একটি মামলায় সাক্ষী দিতে কোর্টে এসেছি। পরে কথা বলবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক নারী জাহিদুল নামে তার দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফুলতলা ফাঁড়ির এসআই মেহেদী ঐ নারীর বাড়ীতে আসেন। ঐ নারী সম্পর্কে জাহিদুলের ভাবী। এসআই মেহেদী জাহিদুলের ঘর কোনটি জানতে চান।  আন্না (জাহিদুলের ভাবী), জাহিদুলের ঘর দেখিয়ে দিলে, এসআই মেহেদী ঘরে ঢুকে ৪ জনকে মাদকসেবনরত অবস্থায় পান। তখন তিনি হাতে নাতে ফয়জুল মাদবরের ছেলে হাসান মাদবরকে আটক করেন। কিন্তু জাহিদুলসহ বাকি ৩ জন পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনিসহ আরেকজনকে এসআই মেহেদী মাদকের টুকরো এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখান। এরপরে হাসানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।
পরে সন্ধ্যায় হাসানকে তারা এলাকায় দেখতে পান। জিজ্ঞেস করলে হাসান জানান ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন। হাসান বিদেশে থাকে এবং অতিদ্রুত আবার চলে যাবে বলে টাকা বেশি দিতে হয়েছে বলে জানান।
 হাসানকে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাসানের পিতা ফয়জুল মাদবরকে ফোন দিলে, তার স্ত্রী ধরেন। বলেন তিনি কিছু জানেন না।
জানা যায় হাসান, জাহিদুল এলাকায় নেই।
জাহিদুলের ভাবী আন্নার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি বিস্তারিত জানেন না। জাহিদুল তাকে দূর থেকে হুমকি দিচ্ছে। বাচ্চা কাঁদছে বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে স্থানীয় জনসাধারণের। একইসাথে, প্রায়শই এরকম অভিযোগ উঠায় পুলিশ বাহিনীর ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে স্থানীয় জনসাধারণ মনে করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লামা উপজেলা থেকে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম প্রত্যাহার, গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা এবং অবৈধ ইটভাটা ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

বান্দরবান পার্বত্য জেলার জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোর মধ্যে লামা