নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, ভাঙনের ঝুঁকিতে সরকারি বনাঞ্চল

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১ নম্বর ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোঁসাইগঞ্জ-শব্দিগঞ্জ বন বিভাগ সংলগ্ন নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ভাঙনের পাশাপাশি শব্দিগঞ্জ বনাঞ্চলের সরকারি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট সংলগ্ন নদীতে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কখনো পঞ্চগড় জেলার অংশে ড্রেজার বসিয়ে নীলফামারীর দিকে বালু ফেলা হচ্ছে, আবার কখনো নীলফামারীর অংশে মেশিন স্থাপন করে পঞ্চগড়ের দিকে বালু ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এড়াতে মূলত রাতের বেলায় ড্রেজার চালানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দেয়। এরপর কয়েকদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও ড্রেজার বসিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে নীলফামারী জেলার অংশে গোঁসাইগঞ্জ বন বিভাগের পাশের নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট সংলগ্ন নদীর তীর ও উঁচু জায়গায় বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বালু মহেন্দ্র গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে পানির প্রবাহ নদীর তীরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে বন বিভাগের জমির বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে শব্দিগঞ্জ বনাঞ্চলের আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয়ভাবে তফি ও তোফার নামে দুজনের নাম এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে বলা হলেও অভিযোগটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনার খবর কোনো না কোনোভাবে আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে প্রশাসনের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার মেশিন ও পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পর অনেক সময় দেখা যায়, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ড্রেজার মেশিন ও পাইপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, অভিযানের খবর আগে থেকে কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছে যায়।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “আমরা নীলফামারী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি অবগত করেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি বড় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদীর তীর ও সরকারি বনাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বনভূমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন