ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন নলছিটি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে নলাছটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বাক কমিটির সদস্য এনায়েত করিম মিশু, পৌর বিএনপির সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন তালুকদার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্নাসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জেলা বিএনপির আহ্বাক কমিটির সদস্য ও নলছিটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, নলছিটি পৌরসভা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে বর্তমানে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিনত হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাতে পাওয়া বিভিন্ন নথিপত্রে মিলেছে লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। গত এক দশকে রাজস্ব ও উন্নয়ন বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ৩০ কোটি টাকার বেশি অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এই লুটপাটের প্রধান হোতো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান। সম্প্রতি নলছিটি পৌরসভার সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যায় ধরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে কাজ পায় ইউনুস ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু। তাঁর সঙ্গে আরো কয়েকজন এ কাজে যুক্ত আছেন। নিয়মানুযায়ী দরপত্র আহ্বানের ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সর্বনিম্ম দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। মূলত ইভ্যালুয়েশন, রি-ইভ্যালুয়েশনের নামে এই কালক্ষেপন করছেন সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান। যাতে তার কমিশনের টাকা দর কষাকষি করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই কমিশন বা ঘুষ বাণিজ্যের কারনে বাকি ঠিকাদাররা পে-অর্ডার জমা দিয়ে এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় ভুয়া হুমকির অভিযোগ তুলে গত রবিবার বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন আমাদের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এছাড়াও তিনি যে জিডি করেছেন, তা নিজেই প্রত্যাহার না করলে নলছিটি পৌরবাসীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলেও জানান বক্তারা। নলছিটি পৌরসভাকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, আমাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করার পরে তাঁরা কয়েকজনে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

