![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১১:০৭ এ.এম
পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: এক দিনে ভর্তি ৪০, চিকিৎসাধীন ১৬৩
পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৫৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৪০০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময়ে এ জেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থয় ডেঙ্গু তে মোট একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বোচ্চ ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরপর পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ৯ জন, নেছারাবাদে ৬ জন, নাজিরপুরে ৫ জন, কাউখালীতে ৪ জন, ইন্দুরকানীতে ৩ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যার দিক থেকেও পিরোজপুর সদর এগিয়ে। সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, ভাণ্ডারিয়ায় ৩৫ জন, নাজিরপুরে ৩৩ জন, নেছারাবাদে ২৭ জন, কাউখালীতে ১২ জন, ইন্দুরকানীতে ৯ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১ হাজার ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৪৪ জন চিকিৎসাধীন। এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নাজিরপুরে মোট ভর্তি ১৯৩ জন, ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬০ জন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন। নেছারাবাদে মোট ভর্তি ৪৫৩ জন, ছাড়পত্র ৪২৬ জন এবং চিকিৎসাধীন ২৭ জন। কাউখালীতে মোট ভর্তি ১৭৮ জন, ছাড়পত্র ১৬৬ জন এবং চিকিৎসাধীন ১২ জন।
ভাণ্ডারিয়ায় মোট ৪৯০ জন ভর্তি হয়ে ৪৫৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন; বর্তমানে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন। মঠবাড়িয়ায় মোট ভর্তি ১১৮ জনের মধ্যে ১১৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৩ জন চিকিৎসাধীন। ইন্দুরকানীতে মোট ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন, ৩২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৯ জন চিকিৎসাধীন।
গত কয়েকদিনে ডেঙ্গুর চাপ অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পিরোজপুরকে বরিশাল বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বোচ্চ জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশ, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থাপনা, ড্রেন, নারকেলের খোসা, গাছের গোড়া ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সমুহ ইতিমধ্যে ডেগু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচী চলমান রেখেছে।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.