ঢাকা মহানগরীতে প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর পোশাকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আতঙ্ক ইমরান (২৭) ও তার ৭জন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ডিএমপির লালবাগ বিভাগ। ১৮আগষ্ট মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃরা হলেন ইমরান(২৭), মোঃ তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মোঃ ইসমাইল (২৮)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতি রোধকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করে নিবারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে অপরাধী ও তাদের অপরাধ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।
গত ১৪আগস্ট রাত সাড়ে ৩ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় ৬/৭ জনের সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতদল কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশের ফাঁকা জায়গায় ডাকাতির পরিকল্পনা করার জন্য সমবেত হয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের বিভিন্ন বাহিনীর নাম, পদবি, পোশাক, ওয়াকিটকি ও দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল। খবর পেয়ে এসি লালবাগের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ তৈয়ব আলী সর্দার নামের এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। তবে তার সাথে থাকা অন্য ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়।
মোঃ তৈয়ব আলী সর্দারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া তার অপর সহযোগীরা হলেন উত্তরখান, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকায় বসবাস করে। পরে তার দেওয়া ঠিকানা উত্তরখান এলাকায় গত ১৪আগস্ট অভিযান পরিচালনা করে পাভেল সর্দার নামে আরো এক ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মোবাইল ফোন, র্যাব লোগোযুক্ত একটি আইডি কার্ড হোল্ডার, দুইটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত মোঃ তৈয়ব আলী ও পাভেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ আগস্ট বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান, নুরুল ইসলাম ও মোঃ ইসমাইল নামে আরও পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং স্থল থেকে একটি কালো ওয়াকিটকির সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুইটি ভুয়া নম্বর প্লেট, তিনটি র্যাব লেখা ভেস্ট, একটি ডিবি লেখা ভেস্ট, দুইটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, পাঁচটি কালো রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, পাঁচটি হলুদ রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি কালো রঙের পিস্তল কভার, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার কাজ করে আসছে। পরবর্তীতে আসামি ইমরানের দেওয়া তথ্যে ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তৈয়ব আলীর দেওয়া তথ্য মতে একই দিন সকাল ৮টার সময় ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ও তৈয়ব আলীর মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।
তারা আরো বলেন, উদ্ধারকৃত পিস্তলটি তৈয়ব আলী সর্দার কিছুদিন আগে তার সহযোগি ইমরানের কাছে হস্তান্তর করে। তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া গেছে। গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তৈয়ব আলী ও পাভেলকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ডাকাতির ঘটনায় ও তৈয়ব আলী জড়িত রয়েছে। এই ডাকাত দলের সদস্যরা সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির কাজে জড়িত ছিলো বলেও তারা স্বীকার করে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আতঙ্ক ইমরানের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।