
প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে শরণখোলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ২৫.৮.২০২৬ তারিখ এ অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব শিশির দাস এবং বিআরডিবি কর্মকর্তা মিসেস লাবনী খাতুন। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও ইয়ুথ ফর সুন্দরবন-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপান্তরের প্রজেক্ট ম্যানেজার আলমগীর হোসেন মিরু।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার জনাব ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, “প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, আমাদের জনস্বাস্থ্য, জলজ জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক ও পলিথিন নদী-খাল, জলাশয় এবং সুন্দরবনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান ও বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে পারলেই একটি পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন। আলোচনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালা শেষে বক্তারা প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার পরিহার করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




