
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ও অন্যতম ব্যস্ত এলাকা দড়াটানা ব্রিজের ওপর পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকারদের অবৈধ পসরা, অস্থায়ী দোকানপাট এবং ভিক্ষুকদের দখলে চলে যাওয়ায় মূল সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ফলে শহরটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও সম্ভাব্য মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দড়াটানা ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাতে ফল, জামাকাপড়, চা-নাস্তাসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন হকাররা। পাশাপাশি ব্রিজের চলাচলের সংকীর্ণ পথজুড়ে ভিক্ষুকরা বসে ও শুয়ে থাকার কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সামান্য উপায়ও থাকে না। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যখন অফিসে যাওয়া-আসার যাত্রী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়ে, তখন এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। নারী, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই ব্রিজ অতিক্রম করা যেন এক দৈনন্দিন যুদ্ধ।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের উদ্দেশ্যেই নির্মিত। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ মানুষ তাঁদের মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হওয়ায় দ্রুতগামী যানবাহন ও রিকশার ভিড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এক স্থানীয় পথচারী আক্ষেপ করে বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে গাড়ির নিচ দিয়েই হাঁটতে হয়। ফুটপাত যদি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্যই না থাকে, তবে তা বানিয়ে লাভ কী? প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো দিন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবিকার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার দাবি রাখলেও, জনস্বার্থ ও শহরের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করেন, কেবল সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালালে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হকারদের জন্য দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট বিকল্প পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্ধারণ করা এবং কঠোর আইনি তদারকি নিশ্চিত করাই হতে পারে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান।
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রকে যানজটমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ রাখতে যশোর জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।




