
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়নে অবাধে চলছে মরণঘাতী ইয়াবা ব্যবসা। স্থানীয়দের তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে নিয়ামতি ইউনিয়নের মধ্যম মহেশপুর গ্রামের নান্না শিকদারের একমাত্র সন্তান রুবেল শিকদার যেন এখন সব আইনের ঊর্ধ্বে। বিগত ২০২৪ সালে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করলেও মাত্র দেড় মাসের মাথায় জামিনে বের হয়ে আসে । এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে তার নিজ গ্রাম মধ্যম মহেশপুর,মহেশপুর সহ আশে পাশের বিভিন্ন এলাকাকে কেন্দ্র করেই মূল মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে যাচ্ছে। তার এই ভয়ঙ্কর ইয়াবা জালের বিস্তারের ফলে বর্তমান যুবসমাজ আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় রুবেল শিকদার যুবক বয়স থেকেই এই মরণঘাতী ইয়াবা ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ামতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট, বাজার এবং বিশেষ করে মধ্যম মহেশপুর অঞ্চলের আনাচে কানাচে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি শক্তিশালী চক্র নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে। এই অবৈধ ও নিষিদ্ধ মাদক বিক্রির কালো টাকা দিয়ে সে এলাকায় প্রায় কোটি টাকার বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় তরুণ ও কিশোর গ্যাং এই মরণ নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে যার ফলে এলাকায় চুরি ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু পরিবার তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে রুবেল শিকদারের মাদক বাণিজ্যের বিস্তার এখন আর কেবল একটি নির্দিষ্ট পাড়া বা মহল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন পুরো নিয়ামতি ইউনিয়ন ছাড়িয়ে বাকেরগঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। উঠতি বয়সী তরুণরা খুব সহজেই তার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে মাদকের মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত পারিবারিক অশান্তি ভাঙন এবং কিশোর অপরাধের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেক সময় মুখ খুলতে পারে না যার সুযোগ পুরোপুরি নিচ্ছে এই মাদক কারবারি।
এলাকার একটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ স্কুল শিক্ষক বলেন, মাদকের এই মরণঘাতী বিস্তারের কারণে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। রুবেল সিকদারের মতো চিহ্নিত অপরাধীরা যখন বারবার আইনের ফাঁকফোকর এর মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে আসে তখন তা পুরো সমাজের জন্য একটি ভুল বার্তা দেয়। এই ধরনের মাদক ব্যবসায়ীরা স্কুল কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও যুবকদের টার্গেট করে পুরো সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে সবসময় চরম আতঙ্কে থাকি। এই অবৈধ ব্যবসার মূল উৎপাটন করতে না পারলে আগামী প্রজন্মকে কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই অবিলম্বে প্রশাসনকে এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একটি স্বাধীন এবং সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম। আজ আমাদের স্বাধীন দেশে যদি চোখের সামনে যুবসমাজ এভাবে মাদকের নেশায় ধ্বংস হয়ে যায় তবে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রুবেল শিকদার অর্থের জোরে এবং অবৈধ ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে নিজ গ্রামে মাদকের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই মাদক কারবারিরা দেশ ও সমাজের প্রধান শত্রু। তাদের সামাজিক ও আইনিভাবে পুরোপুরি বয়কট করতে হবে। জেলা পুলিশ সুপার এবং র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন তারা যেন এই মধ্যম মহেশপুর এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রটিকে চিরতরে নির্মূল করেন।
নিয়ামতি ইউনিয়নের সাধারণ বাসিন্দারা জানান রুবেলের এই সর্বনাশা ব্যবসার কারণে এলাকার শান্ত পরিবেশ আজ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর মধ্যম মহেশপুর সংলগ্ন বিভিন্ন নির্জন স্থান ও অলিগলিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে রুবেলের পালিত ক্যাডার বাহিনী ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এক প্রকার জিম্মি দশায় দিন কাটাচ্ছেন মধ্যম মহেশপুরের নিরীহ মানুষ। তারা অবিলম্বে এই ত্রাসের রাজত্ব বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জানান মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। রুবেল শিকদার নামের ওই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় মামলা হয়েছে এবং তাকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল। সে জামিনে এসে আবারও এই অপরাধের সাথে জড়িয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাকে এবং তার সিন্ডিকেটের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদকের এই বিশাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে রুবেল শিকদারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়,,,,,,,,,।




