বাগেরহাটে ঠিকাদার পরিবর্তন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে লক্ষ্মীখালী ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

বাগেরহাটে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া লক্ষ্মীখালী ব্রিজের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।যার ফলে আগে থেকে ঝূকিপূর্ণ কাঠের পোল দিয়ে পাড়াপাড় করছেন স্থানীয়রা। মাঝে মাঝেই ঘটছে ছোটখাট ‍দূর্ঘটনা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে অতিদ্রুত কাজ শেষের দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় বারাকপুর বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তারিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল, মো. মহিদুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি সদস্য সকিনা বেগম, শেখ জিহাদ আলী খোকন, ফকির মাসুম বিল্লাহ, ছাত্রনেতা শেখ আরিফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এলাকাবাসীর দাবি কাজ না করে ঠিকাদার সরকারি টাকার একটা অংশ তুলে নিয়েছেন। আর ভাঙ্গা নড়বড়ে কাঠের ব্রিজের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনগণের। ঠিকাদারে নিয়োগ বাতিল করে অতিদ্রুত নতুন ঠিকাদার দিয়ে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার দাবি মানববন্ধনকারীদের।
ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, নড়বড়ে ওই কাঠের পোলের দুই পাশে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই পোল দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাওয়া আসা করেন। অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ রামপাল, মোংলা ও বাগেরহাট সদরে যাওয়ার জন্য ওই পোলটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এলজিইডি এখানে ব্রিজের জন্য টাকা বরাদ্দ দিলেও, স্থানীয়দের কোন উপকারে আসেনি।নির্ধারিত সময় শেষ হলেও, কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
আবুল শেখ নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ঠিকাদারতো বাড়ি থেকে টাকা এনে কাজ করবে না। সরকারি টাকায় কাজ করবে। তারপরও কেন কাজ ফেলে রাখবে। আমাদের দাবি অতিদ্রুত ব্রিজ নির্মান করে এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘব করুণ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, দরপত্র আহবান ও যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৪ সালের শেষের দিকে পূর্বসায়ড়া-লক্ষ্মীখালী খালের উপর ব্রিজ নির্মানের জন্য নিসিথ বসু নামের একটি ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয় এলজিইডি বাগেরহাট। ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৪ হাজার ২১ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, দৃশ্যমান তেমন কোন কাজ করেনি ঠিকাদার। তবে এই সময়ে ১৩ শতাংশ কাজের বিল নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সব শেষ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম হাসান ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, পূর্বসায়ড়া-লক্ষ্মীখালী ব্রীজটির কাজ খুব পুরানো। ঠিকাদার প্রথম থেকেই ঠিক-ঠাক কাজ করেনি। আমরা তাকে চিঠি দিয়েছি, চিঠি দেওয়ার পরে দুই পাশে শুধু পাইলের কাজ করেছে। তারপর আর কোন কাজ করেনি। ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের জন্য উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে নেওয়া হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন