বিএনপির জন্ম দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্র রক্ষার প্রয়োজনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ বিজয় চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস কোনো বেইমানির ইতিহাস নয়, কোনো মুনাফেকির ইতিহাস নয়। জনগণের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্র রক্ষার প্রয়োজনে বিএনপির জন্ম হয়েছে।’
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়। ৭ নভেম্বরের সেই ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার সময় অনেক নেতা থাকলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির জন্ম হয়। বিএনপি কোনো ক্যান্টনমেন্টে তৈরি হওয়া দল নয়; বরং জনগণের প্রয়োজনে ও দেশের স্বার্থে এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবার ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে বিএনপি কখনো আপস করেনি।
বিএনপিকে নিয়ে নানা কথা বলা হলেও দলটির রাজনৈতিক ভিত্তি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি সব সময় ভূমিকা রেখে এসেছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনী বসুনিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন তোবারক হ্যাপি, পৌর বিএনপির সভাপতি সরকার ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম ও হারুন অর রশীদ এবং যুগ্ম সম্পাদক তৌকির আহমেদ তুহিন প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে বিজয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।