বিরামপুরে স্বর্ণ কেলেঙ্কারি: পুলিশের দুই সদস্য প্রত্যাহার,তদন্ত কমিটি গঠন

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সোনা পাচারকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণের বার আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন বিরামপুর থানার বেতার বার্তা অপারেটর কনস্টেবল রাশেদুজ্জামান এবং হাকিমপুর থানার কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকা থেকে বাইসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন মো. জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পথে রামচন্দ্রপুর আদিবাসীপল্লি এলাকায় তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালান ওই দুই পুলিশ সদস্য।
তল্লাশির সময় জামিলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তিনি তার কাছে থাকা কয়েকটি সোনার বার পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন বলে জানা যায়। পরে পুলিশ তার পকেট থেকে দুটি সোনার বার উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। কিছুক্ষণ পর জামিলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর জামিল স্থানীয় একটি বাড়িতে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে পুকুরে নেমে ফেলে দেওয়া পাঁচটি সোনার বার উদ্ধার করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনা জানা জানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন এবং বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান। তারা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরামপুর থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন,ওসি স্যার বিষয়টি জানার পর ওই দুই পুলিশ সদস্য সোনার বার দুটি তার কাছে জমা দেন। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেল) আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন