বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মরণে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

আজ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ও ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সমাজে দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা মীলাদুন্নবী হিসেবে স্মরণ ও পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, দরুদ ও সালাম পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসে ১২ রবিউল আউয়াল দিনটি বিশেষভাবে আলোচিত। প্রচলিত ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ দিনেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের সঙ্গে দিনটি সম্পৃক্ত। তবে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই জানিয়েছেন, তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন। হযরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের হাদিসে রয়েছে, সোমবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেন—এ দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এ দিনেই তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।
অন্যদিকে, সহিহ বুখারিতে হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবার ইন্তেকাল করেন।
সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
অর্থ: “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” —সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭।
এই আয়াতের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তাঁর রহমত ও কল্যাণের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে বলেছেন—
وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।” —সূরা আল-কলম, আয়াত ৪।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল মানবতার জন্য আদর্শ। তাঁর শিক্ষা মানুষকে সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, আমানতদারি, প্রতিবেশীর অধিকার, এতিম-দরিদ্রের প্রতি সহমর্মিতা এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়।
সহিহ বুখারির একটি হাদিসে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ব্যক্তিগত কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিশোধ নিতেন না; তিনি সহজ ও কল্যাণকর বিষয়কে গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না তাতে গুনাহের বিষয় থাকত।
জন্ম ও ওফাতের স্মরণে করণীয়
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ স্মরণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত, দোয়া, দান-সদকা এবং তাঁর সুন্নাহ ও উত্তম চরিত্র অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করা যেতে পারে।
ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের পদ্ধতি ও শরয়ি অবস্থান নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট আয়োজনকে কুরআন-হাদিসে সরাসরি নির্ধারিত বিধান হিসেবে উপস্থাপন না করে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, দরুদ-সালাম, তাঁর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা অধিকতর সতর্ক ও গ্রহণযোগ্য।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবন মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। তাঁর দেখানো শান্তি, দয়া, ক্ষমা, ন্যায় ও মানবতার পথে চলাই হতে পারে তাঁর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসার অন্যতম প্রকাশ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Untitled

FS Casino – bonusuri, rotiri gratuite, rulaj și condiții de

Untitled

FS Casino – sloturi, exemple din catalog, furnizori și mod