রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি সংকট: সীমিত সময়, সীমিত সরবরাহ, বাড়ছে দুর্ভোগ

রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সীমিত সরবরাহের কারণে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তেল বিতরণ করা হচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় চালকদের। চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে অকটেন সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে তেল নিতে হলে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেলমেট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে তিনদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অকটেন এবং অন্য তিনদিন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সীমিত সময় ও স্বল্প সরবরাহের কারণে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সুনয়ন খীসা বলেন, “দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৩০০ টাকার তেল দিয়ে আমাদের চলে না। প্রতিদিন কাজে যাওয়া-আসায় প্রায় ২ লিটার তেল লাগে।
আরেক চালক মানিক সুজা বলেন, “সব পাম্পে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর তেল দেওয়া হয় না, এতে ভোগান্তি বাড়ছে।
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, “জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নজরদারি করা হচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র ও লাইসেন্স যাচাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈধ যানবাহন জ্বালানি পায়।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপরিবহন খাতেও। তেলের অভাবে কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো এখনো চালু রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় লঞ্চ চলাচলও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বরকল রুটে চলাচলকারী এমএল বাগদাদ লঞ্চের সারেং মাসুম মিয়া বলেন, “আমাদের প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, কিন্তু পাচ্ছি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার। এভাবে চলতে থাকলে লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির ৬টি উপজেলার ১০টি নৌরুটে প্রায় ৩০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে। জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন