
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় এক ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশ হিসাব থেকে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি শপিং ব্যাগ থেকে আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুলতানা (৩৯) ও মো. আসলাম আলী (৫৫)। সুলতানা রাজশাহী মহানগরীর ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আসলাম আলীর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থান্দারপাড়া এলাকায়। তিনি বর্তমানে নগরীর তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. মনোয়ার হোসেন মানুর সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে মুঠোফোনের মাধ্যমে সুলতানার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুলতানা তাঁকে নিজের বাসায় দাওয়াত দেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে তিনি ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে সুলতানার ভাড়া বাসায় যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী বাসায় প্রবেশের পর দেখতে পান, সেখানে আগে থেকেই আরও দুই ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসার দরজা বন্ধ করে তাঁকে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে সাধারণ জখম করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আনতে বাধ্য করা হয়।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর নগদ হিসাব থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিকাশ হিসাব থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকা পাঠানো হয়। পরে আসামিরা এজেন্টের মাধ্যমে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপরও আরও টাকা দাবি করা হলে ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি রাজপাড়া থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সুলতানা ও আসলাম আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন মোবাইল ফোন, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং ভুক্তভোগীর নগদ ও বিকাশ হিসাব থেকে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সুলতানার দেখানো একটি শপিং ব্যাগ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসলাম আলীর বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় পেনাল কোডে একটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে আরএমপি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।





