বৃহস্পতিবার,২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজিবপুরে সিন্ডিকেট করে ২০০ টাকা লিটার তেল বিক্রি

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, তৈয়ব আলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকসহ, সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৈয়ব আলীর নিয়ন্ত্রিত চক্র অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তৈয়ব আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, “কত টাকায় বিক্রি করেছি, সেটা কি আপনাকে বলতে হবে?”-তার এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই দোকানে ২০০ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করে ‘তেল শেষ’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে একই দিনে সন্ধ্যার পর গোপনে জেরিকেনভর্তি তেল বস্তায় ভরে কালোবাজারে পাচারের সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পরে উত্তেজিত জনতা তেলসহ ব্যবসায়ীকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে কালোবাজারির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি প্রতি লিটার পেট্রোল ১২০ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশ দেন। তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত তেল সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়।
এদিকে  শিবেডাংগী আরেক টি তেল বিক্রিতা, ওমর ফারুক, সে বিক্রি করে ১৭০ টাকা তাকে বললে সে বলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে সে বলে আমি গিয়েছিলাম আমাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি তাই আমি ১৭০ করে বিক্রি করতে বলছি,
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের  নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে প্রকাশ্যে ২০০ টাকা দরে তেল বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ জনগণের হাতে ধরা পড়ার পর প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন