
‘চিন্তা করে ক্লিক করুন, সাইবার জ্ঞানই আপনার সেরা নিরাপত্তা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল অডিটোরিয়ামে সাইবার সচেতনতাবৃদ্ধি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আয়োজনে এবং বিকাশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে হলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডির ডিআইজি (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুদ্দিন শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস, সিপিসি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান এ কে এম মনিরুল করিম।
কর্মসূচিতে সাইবার হয়রানি, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, পরিচয় জালিয়াতি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া লিংক ও অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধান অতিথি মো. সাইফুদ্দিন শাহীন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তি মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর অপব্যবহারের কারণে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, যোগাযোগ, বিনোদন ও দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। ফলে সাইবার নিরাপত্তা এখন শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়; প্রত্যেক নাগরিকের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাকে বেশি কাজে লাগায়। একটি ওটিপি শেয়ার করা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেও বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হতে পারেন কেউ। তাই সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বিশেষ অতিথি এ কে এম মনিরুল করিম ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলও দেখা দিচ্ছে। তবে সচেতনতা ও সঠিক তথ্য জানার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি-পিন কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, সন্দেহজনক লিংক ও বার্তা এড়িয়ে চলা এবং অনলাইন পরিচিতির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। অতিথিরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে তাদের দিকনির্দেশনা দেন।




