লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাবকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছে মানুষ। শুক্রবার প্রকাশিত ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চলতি ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।
জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৫৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন। ২০২০ সালে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করেছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে শুধু কোস্টারিকা ও ডমিনিকান রিপাবলিকে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরের দুই দশকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
লাতিনোব্যারোমেট্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে বলেন, ওই সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
তার মতে, কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে।
লাগোস বলেন, চীন যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে, সেটি মূলত মানুষের পকেটের শূন্যস্থান-অর্থাৎ কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ।
-যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে-
তবে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।
তবে ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সে বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে থাকাকালে ৭৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নামটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নাম মিলিয়ে তৈরি। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন যে অঞ্চলকে ‘আমাদের গোলার্ধ’ বলে উল্লেখ করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া লাতিন আমেরিকার সব দেশেই বেশিরভাগ মানুষ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন।
তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ বলেছেন, এতে দেশটির ক্ষতি হয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছেন।
চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোব্যারোমেট্রো গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতামত নিয়ে জরিপ করে।
চলতি ২০২৬ সালের এই জরিপে ১৭টি দেশে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা ১ শতাংশ।