
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মালুম্যা ও বগাইছড়ি এলাকায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা প্রশাসনের নজরদারির অভাব সংক্রান্ত দাবির বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বগাইছড়ি ও মালুম্যা এলাকার বিভিন্ন স্পট বা পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় অধিবাসী। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বালু তোলায় পাহাড়ি এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জমির স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
এই বালু উত্তোলন প্রক্রিয়ার সাথে আব্দুল হাকিম সোনা মিয়া, আবুল হোসেন ও শাহারিয়ার আলম নামের তিনজনের নাম যুক্ত করে গুঞ্জন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে পয়েন্ট প্রতি মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের (প্রায় ১৫ হাজার টাকা) লেনদেনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনাটিকে তাদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ ও ‘ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে করা অভিযোগ’ বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, আইনবহির্ভূত কোনো কাজের সাথে তারা যুক্ত নন এবং মাসোহারা তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বা বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে জরিমানা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এসব পয়েন্টেও দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং একইসাথে কোনো অবৈধ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডও যেন ছাড় না পায়।