
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে লোকালয়ের কাছাকাছি বাঘের বিচরণের চিহ্ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি বাড়ির পেছনে ভোলা নদীর চর ও ঝোপঝাড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিজেদের ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসী। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বন বিভাগ। পাশাপাশি সতর্কতামূলক মাইকিং ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ হাওলাদারের বাড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গা, নদীর চর ও ঝোপঝাড়ে সন্দেহজনক পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। সুন্দরবনসংলগ্ন এ জনপদের অনেক মানুষ নদী ও বননির্ভর জীবনযাপন করেন। ফলে বসতবাড়ির এত কাছে বাঘের বিচরণের চিহ্ন পাওয়ার খবরে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী এবং স্থানীয় ভিলেজ রেসপন্স টাইগার টিমের (ভিআরটি) সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীর চরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের চলাচলের পায়ের ছাপ ও অন্যান্য চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ওই এলাকায় টহল ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি গভীর রাতে সুন্দরবন থেকে বের হয়ে নদীর চরে এসেছিল এবং পরে আবার বনের ভেতরে ফিরে গেছে। তবে বাঘটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও গতিবিধি নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পায়ের ছাপ দেখতে কিংবা বাঘের ছবি তুলতে উৎসুক জনতাকে ঘটনাস্থলে ভিড় না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কভাবে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার পর ও ভোরে নদীর পাড় কিংবা নির্জন পথে একা চলাচল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। রাতে গবাদিপশু নিরাপদ ও শক্ত বেষ্টনীযুক্ত গোয়ালঘরে রাখা এবং শিশুদের বাড়ির বাইরে কিংবা ঝোপঝাড়ের কাছে একা যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাঘের দেখা পেলে সেটিকে বিরক্ত না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোনাতলা এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বন বিভাগ। তবে বাঘটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।





