
মাদারীপুরের শিবচরে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পদ্মা নদীতে ঢিলেঢালা অভিযানের অভিযোগ মৎস্য কর্মকর্তা ও নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে । উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা ও চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ২০ দিনে অভিযান পরিচালনা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৯ জন জেলেকে আটক এবং ১২ টি মামলা দায়ের করা হয় । পাশাপাশি ২৬ জনের জেল ও ৫ জনকে ১৪০০০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এবং ৫ লক্ষ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয। ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১৪ টি ট্রলার জব্দ করা হয়। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির মধ্যেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনে এবং রাতে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যপারে দৈনিক জনতাকে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন,শিবচরে জনবলসংকট, দুর্গম চরাঞ্চল এবং নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে রাতের অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিবচরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী মাদবরেরচর, কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত, বন্দরখোলা, কাজীরশুরায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মা-ইলিশ। জানতে চাইলে দৈনিক জনতার প্রতিনিধিকে
শিবচরের চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) নাসিম আহমেদ বলেন,চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে স্পিডবোট দিয়ে নদীতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে নৌ-পুলিশ। এ সময় পদ্মা নদীর মাঝে ইলিশ ধরার কোনো ট্রলার চোখে পড়েনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় নদীতে জেলেদের তৎপরতা তুলনামূলক কম থাকলেও গভীর রাতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ রক্ষায় শুধু পদ্মা নদীতে টহল জোরদার করলেই চলবে না, ইলিশের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীতে মাছ শিকার বন্ধের পাশাপাশি মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সম্ভাব্য বাজার ও আড়ৎগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।কিছু অসাধু জেলে ইলিশ শিকারে নামছেন। দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর, চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয়ের একাধিক স্পট রয়েছে। কাজীরশুরা, হীরাখাঁর চর ও বাংলাবাজারসহ পাঁচ থেকে সাতটি স্থানে দিনে- রাতে মাছ ক্রয়-বিক্রয় চলে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এসব স্থানে ইলিশের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও নৌ-পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ
কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হচ্ছে।
চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(আইসি) নাসিম আহমেদ আরো বলেন, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মৎস্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় সকাল ও রাতে নৌ-পুলিশের দুটি টহল দল নদীতে দায়িত্ব পালন করছে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দেখা এবং জানা যায় জেলেরা মাছ শিকারে ব্যস্ত নাম প্রকাশ না করার সত্বে স্থানীয় কয়েক জেলে বলেন, নৌ-পুলিশকে টাকা দিলে মাছ ধরতে দেয়। টাকা না দিলে ধরে নিয়ে যায়। অনেক জেলের কাছে থেকে টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় দোকানদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, অনেক জেলের কাছে থেকে টাকা নিয়েছেন।





