কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর ইউনিট। এ ঘটনায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কন্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত এক ‘কবিরাজ’-এর প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়।
প্রতারক চক্রটি ইমু ও টিকটকের মাধ্যমে ‘তান্ত্রিক চিকিৎসা’ এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটির কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা মনির হোসেনকে ময়মনসিংহ থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারকরা বিভিন্ন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের টার্গেট করে আবেগের সুযোগ নেওয়া হতো।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া বিজ্ঞাপন বা কথিত তান্ত্রিকদের প্রলোভনে পড়ে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।




