মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরগজ গরুর হাটের ইজারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করায় এক অনলাইন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যক্তিগত সুবিধা বা চাঁদা না পেয়ে হাটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির বিষয়টি এখনো প্রমাণিত নয়।
স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হরগজ হাটটি এলাকায় পশু কেনাবেচার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণ সময়ে এখানে মাত্র ২০০ টাকা হাসিল নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় প্রশাসনিক সমন্বয় ও আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় হাসিল ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, পার্শ্ববর্তী অন্যান্য হাটের তুলনায় এই হার অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
হাট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সম্প্রতি এক অনলাইন সংবাদকর্মী হাট কর্তৃপক্ষের কাছে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। কর্তৃপক্ষ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পরপরই “হাটে অতিরিক্ত হাসিল নেওয়া হচ্ছে” মর্মে একটি নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
হাটের এক নিয়মিত ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”আমরা বহু বছর ধরে এই হাটে কেনাবেচা করি। এখানকার হাসিল সব চেয়ে কম এবং পরিবেশও ভালো। ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে হাটের বদনাম করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছেন কি না তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই; মূলত ক্ষোভ থেকেই অনেকে এমন অনুমান করছেন।
হাট ইজারা কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে ওই সংবাদকর্মী হাটের শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তারা জানান, সরকারি ও স্থানীয় নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না এবং প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




