সিরাজগঞ্জে ১৮ বছর ধরে পাখিদের বন্ধু মুদি দোকানদার আব্দুর রশিদ-প্রতিদিন ২ কেজি চানাচুর দেন পাখিদের, দেখতে ভিড় করেন দূর-দূরান্তের মানুষ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হরিণা পিপুলবাড়িয়া বাজারে গেলেই চোখে পড়বে এক অন্যরকম ভালোবাসার দৃশ্য। শত শত পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত একটি মুদি দোকান। আর সেই দোকানের মালিক আব্দুর রশিদ, যিনি গত ১৮ বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে পাখিদের খাওয়াচ্ছেন। এলাকায় তিনি এখন ‘পাখি-বন্ধু’ হিসেবেই পরিচিত।
জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৬টার আগেই দোকান খোলেন রশিদ। দোকান খোলার অপেক্ষায় থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই, শালিক, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখি। প্রতিদিন প্রায় ২ কেজি চানাচুর ছিটিয়ে দেন তিনি। সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যেই চলে পাখিদের এই ভোজন উৎসব।
এ প্রসঙ্গে আব্দুর রশিদ বলেন,আমার সকালে ঘুম ভাঙে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে। আমার খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পাখি আসে আমার দোকানে। আমি যতদিন বেঁচে আছি, পাখিদের সেবা করে যেতে চাই।
রশিদের এই মহৎ উদ্যোগে মুগ্ধ তার সহকর্মী দোকানদাররাও। পাশের এক দোকানদার বলেন, “রশিদ ভাইয়ের এই কাজটা আমরা প্রায় ১৮ বছর ধরে দেখছি। লাভ-লোকসানের চিন্তা না করে যেভাবে পাখিদের খাওয়ায়, এটা আসলেই একটা মহৎ কাজ।”
আরেক দোকানদার বলেন, “তার দোকানে পাখি আসে বলে আমাদের বাজারের সুনামও বেড়েছে। অনেক দূর থেকে মানুষ আসে শুধু এই দৃশ্য দেখতে।
এই দৃশ্য দেখতে বাজারে আসা সাধারণ মানুষের মনেও আনে প্রশান্তি। এক পথচারী বলেন, “বাজারে এলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। পাখির শব্দে অন্যরকম শান্তি লাগে।” আরেকজন বলেন, “আমরা চাই রশিদ চাচার মতো সবাই পাখিদের ভালোবাসুক। তাহলে পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।
লাভের হিসাব ছাড়া প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সত্যিই বিরল। রশিদের এই ভালোবাসা টিকে থাকুক যুগের পর যুগ, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা সেতুর নিচে নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদীর মাথাভাঙ্গা সেতুর নিচে শনিবার (১৯ শে সেপ্টেম্বর)