সিলেটে র‍্যাব-৯ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ চক্রের সদস্য গ্রেফতার

সিলেট মহানগরীর শাহজালাল (রহ.) মাজার গেইট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ একটি সংঘবদ্ধ জাল টাকা সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ (র‍্যাব-৯)। বুধবার (১৩ মে) পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ জাল নোট, যা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সিলেট নগরীকে কেন্দ্র করে জাল টাকা বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‍্যাব-৯ এর গোয়েন্দা দল চক্রটির গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি সক্রিয় জাল টাকা সরবরাহকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাল নোট সরবরাহ করে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন হাট-বাজার, যানজটপূর্ণ এলাকা ও জনসমাগমস্থলকে টার্গেট করে তারা জাল নোট ছড়িয়ে দিত।

তিনি আরও জানান, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী হওয়ায় তাদের শনাক্ত করতে র‍্যাবকে দীর্ঘ সময় গোয়েন্দা নজরদারি চালাতে হয়েছে। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জাল টাকা সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত জাল নোটগুলোর মান এতটাই নিখুঁত ছিল যে সাধারণ মানুষ সহজে তা শনাক্ত করতে পারতেন না। ফলে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছিলেন। বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, র‍্যাবের এ সফল অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিলেটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা। তারা বলছেন, জাল টাকার বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

র‍্যাব-৯ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা তৈরির মূল উৎস, এর পেছনের নেটওয়ার্ক এবং আন্তঃজেলা সংযোগ খুঁজে বের করতেও কাজ করছে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নোবিপ্রবি গ্রন্থাগারে বৈধ আমদানিকৃত বই ফেরত দেওয়ার অভিযোগ আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বৈধভাবে