সিলেট নগরীতে আবারও ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপরতার শিকার হয়েছেন এক কলেজ শিক্ষার্থী। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে নগরীর তের রতন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন মোঃ আব্দুস সামাদ সোহেল (ডিগ্রি ২য় বর্ষ), মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই বাসা থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহেল। পথিমধ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই তারা তার ওপর হামলা চালিয়ে সঙ্গে থাকা সেশন ফি বাবদ ৩২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সোহেল বাধা দেন। এতে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে তার পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সোহেলকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, আহত সোহেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর এমসি কলেজ শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তের রতন এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রটি শুধু শিক্ষার্থী নয়, সিএনজি চালক, ইজিবাইক চালক, সবজি বিক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদেরও নিয়মিত টার্গেট করে আসছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—
- আব্দুস সালাম, পিতা: আব্দুল হান্নান, সাদারপাড়া, সিলেট
- কায়েছ আহমদ, পিতা: কুনু মিয়া, তের রতন, সিলেট
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপশহর, সাদারপাড়া, মিরাপাড়া, সবুজবাগসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারণে তারা আইনের আওতার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন তাদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভুক্তভোগী সোহেল জানান, তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাহপরান থানা-এ। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, “প্রতিদিন মানুষ ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এখনই কঠোর না হয়, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
সচেতন মহলের দাবি, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।




