১২ কোটি টাকা ঢেলেও মিরুখালি সড়কে গাড়ি চলে ‘হেলেদুলে’

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া মিরুখালি সড়ক সংস্কার প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুনে ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইফতি টিসিএল’কে সড়কটি সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুটি প্যাকেজে সড়ক সংস্কারকাজের ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সড়ক ও সেতুর কাজসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ ও কাজ দুটিই স্থগিত রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মিরুখালি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে অনেক গর্ত ভরে গেছে। এসব গর্ত এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি সড়কটি দিয়ে নিয়মিত ইট ও কাঠবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় থাকার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলে তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে কাদা, পানি ও গর্তের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পিরোজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া বিল দাবি করে কাজ বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা ও পৌরসভার মাধ্যমে সড়কের গর্তগুলো ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন দরপত্রের মাধ্যমে বাকি কাজ সম্পন্ন করার চিন্তা করা হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা যে পরিমাণ কাজ করেছি, সেই কাজের টাকাও এখনো পাব। বিল পেলে আমরা আবার কাজ শুরু করতে পারব।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নতুন দরপত্রের মাধ্যমে সড়কের অসমাপ্ত সংস্কারকাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি সড়কটি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে টেকসই সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন