![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ৯:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৬:৫৭ এ.এম
১৬০ প্রতিমায় দক্ষিণাঞ্চলের বড় পূজার আয়োজন, সাজছে মঠবাড়িয়ার ‘রাজ মন্দির
দুর্গাপূজাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ‘রাজ মন্দির’-এর আয়োজকেরা। মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, আলপনা ও নানা ধরনের সাজসজ্জার কাজ। আয়োজকদের দাবি, এবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে এখানে।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের আয়োজন সাজানো হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন থিমে। গত বছরের তুলনায় প্রতিমার সংখ্যা কমিয়ে এবার তৈরি করা হয়েছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে থাকছে বিভিন্ন থিম ও ব্যতিক্রমী আয়োজন।
কবুতরখালীর হালদার বাড়িতে এ পূজার আয়োজন করছেন অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুদীপ কুমার হালদার এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী দম্পতি। তাঁদের সঙ্গে আয়োজনের বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন একদল তরুণ-তরুণী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দিরের বিশাল আঙিনাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায়। ফলে প্রতিবছরই এ পূজাকে ঘিরে হালদার বাড়ি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
আয়োজকেরা জানান, ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি এবারও থাকছে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড। দর্শনার্থী মায়েদের জন্য থাকবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার। সেখানে প্রতিদিন স্যানিটারি প্যাড বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অন্যান্য সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৬ সালে মাত্র ৪০টি প্রতিমা দিয়ে এ পূজার আয়োজন শুরু করেন সুদীপ-স্নিগ্ধা দম্পতি। মোড়েলগঞ্জের একটি বড় পূজা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের বাড়িতে এ আয়োজন শুরু করেন তাঁরা। এরপর প্রতিবছরই বেড়েছে আয়োজনের পরিসর। গত কয়েক বছরে প্রতিমার সংখ্যা তিন শতাধিক পর্যন্ত হয়েছিল।
ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, “এ উৎসব লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। দুর্গাপূজাকে সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক বিষয়গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।”
ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী বলেন, “ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন। পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে মানুষকে খাওয়াতে পেরে আমরা আনন্দ পাই।”
মাগুরা জেলার প্রতিমা নির্মাণশিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস গুরু বলেন, তিনি টানা দুই বছর ধরে এ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। চার থেকে পাঁচ মাসের পরিশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন তাঁরা। তাঁর জানা মতে, এত বড় পরিসরের আয়োজন আর কোথাও হচ্ছে না। এমন বড় আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত।
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে মঠবাড়িয়া থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মন্দির ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.