![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১২:১৩ পি.এম
২৭৪ বছরের ঐতিহ্যে কান্তজীউ বিগ্রহের নদীপথ যাত্রা
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে ২৭৪ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির থেকে নদীপথে রাজবাড়ী মন্দিরে আনা হচ্ছে শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ (রাধা-কৃষ্ণ প্রতিমা)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় বিশেষ পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ প্রথাগত যাত্রার সূচনা হয়।
পুলিশ ও র্যাবের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কান্তজীউ বিগ্রহ বহনকারী নৌযান কান্তনগর থেকে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নৌপথে বিগ্রহের সঙ্গে অংশ নেয় প্রায় ১৮টি সুসজ্জিত নৌকার বহর।
যাত্রাপথজুড়ে ঢেপা নদীর দুই তীরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শতাধিক ঘাটে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্ত কান্তজীউ বিগ্রহকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বরণ করে নেন। তারা ফল-ফলাদি উৎসর্গ, প্রসাদ গ্রহণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বিশ্বশান্তির মঙ্গল কামনা করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর রাজ পরিবারের শতবর্ষী প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তনগর মন্দির থেকে কান্তজীউ বিগ্রহ রাজবাড়ী মন্দিরে আনা হবে। সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পুনরায় নদীপথে কান্তনগর মন্দিরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
প্রায় আট ঘণ্টার যাত্রা শেষে সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কান্তজীউ বিগ্রহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহটি রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।
কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, ধর্মীয় এ আয়োজন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে যাত্রাপথের ৪৬টি ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও কান্তজীউ বিগ্রহের এই ঐতিহ্যবাহী নদীযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ আয়োজন সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.