![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ৫:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৭, ২০২৬, ৯:৩৯ এ.এম
৭১ ও ২৪ এর রাজাকাররা সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে তাদের ব্যর্থ করে দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী -রাশেদ খাঁন
ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করেছে জেলা বিএনপি। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ও বাদ্যযন্ত্রের আয়োজন দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খাঁন বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা পদে পদে এই রাষ্ট্রকে নিয়ে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে তারা পার পায়নি, এখনও পারবে না। একাত্তরের রাজাকার জামায়াতে ইসলাম এবং ২৪-এর রাজাকার আওয়ামী লীগ—তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা চলছে। এসব অপচেষ্টা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, “এতদিন আমরা ভুল ইতিহাস জেনেছি। এখন জাতিকে সত্য ও সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। ৭ নভেম্বর ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার যে প্রতিরোধ ছিল, সেই ইতিহাস আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মূলত এই দিনটি ছিল ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব।” তিনি এ দিনের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রনক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি কামরুল নাহার লিজি, সাধারণ সম্পাদক তহুর খাতুন, জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতির মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। এ দিনের চেতনা জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও তাঁর আদর্শ স্মরণ করে বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশের শেষপর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
Copyright © 2026 Ajker Khobur. All rights reserved.