সিসিকের লেবারের ঘামঝরা টাকায় নজরুলের বিলাসিতা: নেপথ্যে বর্জ্য শাখা প্রধানের মদদ

০৯ এপ্রিল ২০২৬ঠ সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখায় ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১ বছর ৪ মাস আগে চাকরিতে যোগ দিয়েই ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে নজরুল ইসলাম নামে এক সুপারভাইজারের। অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের (লেবার) বেতনের টাকা আত্মসাৎ ও হাজিরা জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নজরুল ইসলামের অধীনে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করেন। সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রতি শ্রমিকের মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেক শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়মিতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু বেতন বঞ্চনাই নয়, কোনো শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত থাকলে সেই দিনের হাজিরাও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নজরুলের বিরুদ্ধে। এছাড়া তার একটি নিজস্ব ‘বাহিনী’ রয়েছে, যারা সুপারভাইজার হিসেবে এসব অনিয়মের তদারকি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে থাকে।

চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১৬ মাসের মাথায় নজরুল ইসলামের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে বর্জ্য শাখার প্রধান একলিম আবেদিন-এর নাম। জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় (বোন জামাই)। এই আত্মীয়তার প্রভাবেই অফিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অভিযোগ করে বলেন,
“রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমরা শহর পরিষ্কার করি। কিন্তু আমাদের কষ্টের টাকার একটা বড় অংশ নজরুল ভাই জোর করে রেখে দেন। প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। অফিসের বড় সাহেব তার আত্মীয় হওয়ায় অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না।”

এদিকে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্জ্য শাখার প্রধান একলিম আবেদিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে একদিকে যেমন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, অন্যদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন