মঙ্গলবার,২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় কে রক্ষা করুন

 নগরকান্দার একমাত্র সরকারি কলেজ, যেখানে নগরকান্দার ছেলেমেয়েরা সহ আশপাশের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে,  কলেজটিতে নেই কোন উন্নয়ন, নেই কোন পরিকল্পনা, নেই সঠিক কোন ব্যবস্থাপনা, সরকারি নগরকান্দা কলেজ ধীরে ধীরে সবার সামনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে,  মেধাবী শিক্ষার্থীরা নগরকান্দা কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তারা ভর্তি হচ্ছে অন্যান্য বিভিন্ন কলেজে গিয়ে,  কলেজে অনেকগুলি বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন কলেজের স্টুডেন্টরা নিয়মিত কলেজে আসতেছে না শিক্ষকরা তাদের ক্লাসও নিতে পারছে না, এর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না,  তারা নিয়মিত আসেন লাইব্রেরীতে বসে থেকে রং চা খেয়ে বাসায় চলে যান,  কলেজটি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ২০২৫ এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা সফরের টাকা নেয়া হয়েছে কিন্তু তাদেরকে শিক্ষা সফরে নেয়নি, তাদের টাকাও ফেরত দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছে,  বাংলাদেশের কোন জাতীয় দিবস যেমন ১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ শে মার্চ সহ আরো যে সকল দিবস রয়েছে তা সরকারি নগরকান্দা কলেজে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয় না, সরকারি নগরকান্দা কলেজ ঢাকা বিভাগীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়ন কিন্তু কলেজের ও ব্যবস্থাপনায় তাও প্রায় বিলুপ্তের দিকে, কয়েকদিন আগে পহেলা বৈশাখ গিয়েছে সব কলেজে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান হয়েছে প্রোগ্রাম হয়েছে নগরকান্দা কলেজে কোন দৃশ্যমান প্রোগ্রাম হয়নি সবই অব্যবস্থাপনার ফল, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ফান্ডের টাকা আসলে মিলেমিশে তা করা হচ্ছে হরি লুট, যেন দেখার কেউ নেই প্রশাসন, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নগরকান্দা কলেজের সাবেক ছাত্রছাত্রী বৃন্দ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন নগরকান্দা কলেজ কে রক্ষা করুন।

 

সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলী আকবার শরীফ জানান, বর্তমান যিনি প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন জাহিদুল ইসলাম স্যার তিনি যখন নতুন আমাদের কলেজে আসলেন তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলাম, সাক্ষাৎ শেষে ক্যাম্পাসের মধ্যে হঠাৎ একজন শিক্ষক আসলেন   তিনি আমাদেরকে জানালেন তিনি ৬ মাস ধরে কলেজে আসেন না আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম আপনি কেন কলেজে আসেন নাই, তিনি বললেন আগের যে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল দায়িত্বে ছিল তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন আমি আসিনি, নতুন প্রিন্সিপাল কলেজে আনছি তাই এসেছি,  আমার প্রশ্ন হচ্ছে নগরকান্দা প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব কি তার?  ছয় মাস কলেজে না আসলেও ক্লাস না নিলেও বাসায় বসে বসে বেতন পাওয়া যায়?  এভাবেই চলছে  সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্র জানান,আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডার যে সকল শিক্ষক আছেন আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে পারি তাদের কোন ত্রুটি নেই, আমি এখানে শুধু “বিসিএস ক্যাডার” শিক্ষকদের কথা বললাম। আমরা এইচএসসি ২৬ ব্যাচ, শিক্ষা সফরের জন্য আমরা দল বেঁধে কয়েকবার অধ্যক্ষের রুমে গেলাম, কথা বললাম, তিনি আমাদেরকে দল তৈরি করতে বললেন দল তৈরি করলাম। তবুও আমাদেরকে নিলেন না শিক্ষা সফরে। এবং শেষ পর্যন্ত জানতে পারলাম আমাদেরই ভর্তির সময়ের নেওয়া কিছু টাকা জমা হয়েছে এবং সেটা এখনো আছে। এ কলেজে নাকি কোন টাকা থাকে না, বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা কোন কাজ করতে গেলে, কিছু চাইলে অধ্যক্ষ স্যার বলেন আমাদের ফান্ডে কোন টাকা নাই। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সরঞ্জামের সংকট নিয়ে আপনার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে কয়েকবার। আপনি আমদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। সেজন্য আপনার কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ। শ্রদ্ধেয় “জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম” স্যার থাকতে ফান্ডে টাকা আসতো কোথা থেকে।

আমাদের কলেজে কিছু শিক্ষিত ভাইরাস আছে, এভাবে বলার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত তবুও বলতে হচ্ছে, আমাদের কলেজে শিক্ষিত কিছু ভাইরাস আছে। তাদেরকে আগে চিহ্নিত করতে হবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এসব কথা বলা উচিত হচ্ছে না তবুও বলতে হচ্ছে ভাইয়া কারণ, এ কলেজ টা আমাদেরই সম্পদ। আমরা হেলে-ফেলে যেভাবেই গেলাম কিন্তু আমাদের আগামী প্রজন্ম! তারাও কি এরকম ভাবে  পাবে কলেজ!

“আবারও বলছি ভাইয়া আমাদের কলেজে কিছু বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক আছেন তারা অনন্য, তাদের প্রশংসা করে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু তারা এখান থেকে ট্রান্সফার হওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, শুধুমাত্র কিছু ভাইরাসের জন্য।”

 

এব্যাপারে সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জনাব জাহিদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন