সিরাজগঞ্জে বেলকুচি, চৌহালী,এনায়েতপুরসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প

 দেশের তাঁত শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী এবং এনায়েতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত লোডশেডিং এবং ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে জেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তাঁত শিল্প এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অর্ধেকেরও বেশি তাঁত কল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ শ্রমিক ও মালিক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

​সরেজমিনে বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুমগুলোতে উৎপাদন খরচ চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে একটি শাড়ি তৈরিতে বিদ্যুৎ খরচ হতো গড়ে ৪০ টাকা, বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়ে সেই খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ টাকায়। অতিরিক্ত খরচ দিয়েও বাজারে কাপড়ের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

​বিদ্যুৎ না থাকায় পাওয়ারলুম মেশিনগুলো দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। কাজ না থাকায় কারখানার ভেতরেই অলস সময় পার করছেন শ্রমিকরা। অনেক জায়গায় শ্রমিকদের গান শুনে বা লুডু খেলে সময় কাটাতে দেখা গেছে। কাজ না থাকায় শ্রমিকদের দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের সংসারে। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, সিরাজগঞ্জ জেলায় পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ তাঁত রয়েছে। বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ তাঁত কোনোমতে চালু আছে। বাকি ৩ লাখ তাঁত কলই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে গেছে। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন চালানো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সুতা ও রঙের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র তাঁতিরা পুঁজি হারাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও আমদানিকৃত কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

​জাতীয় তাঁতি সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে লোডশেডিং সমস্যার সমাধান এবং জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি সমূলে বিনাশ হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের বাঁচাতে সরকারি বিশেষ প্রণোদনা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন