শিশু ধর্ষণে অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)-১৪| বুধবার (৬ মে) ভোর রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের সোনামপুর গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়|
গ্রেপ্তারকৃত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে| তিনি স্থানীয় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন|
বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ প্রেসব্রিফিং করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন| প্রেসব্রিফিং এ জানান, র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের সোনামপুর গ্রাম থেকে ভোর সোয়া ৪ টায় তাকে গ্রেফতার করে|
মামলার এজাহার ও র‌্যাবসূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত| শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন| অভিযোগ রয়েছে, গত ২০২৫ সালের নভে¤^র মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন| গত ১৮ এপ্রিল থেকে ওই শিক্ষক মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দেন এবং এর আগে থেকেই ভুক্তভোগী ছাত্রীটিও মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল| পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন| তখন শিশুটি শিক্ষকের দ্বারা নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে|
পরে মদন শহরের মডার্ণ নামক ডায়াগনোষ্টিক ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে জানা যায় শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা|
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন| যার মামলা নং- ১৭| উল্লেখিত, শিক্ষক ২০২২ সালে ওই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার স্ত্রীও মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত|

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন