নান্দাইলে বিলীনপ্রায় চাষ ও তামাক ব্যবসা আঁকড়ে জীবিকার সংগ্রামে আবুল কাসেম

সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার  ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ বিলীনপ্রায়। তেমনি হারিয়ে যেতে বসা একটি পেশা হলো  তামাক চাষ ও বিক্রি। একসময় গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে তামাকের দোকান ছিল পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু কালের আবর্তে সেই পেশা এখন প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। এর মাঝেও জীবিকার তাগিদে পুরোনো এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা-এর প্রবীণ ব্যবসায়ী আবুল কাসেম।
সম্প্রতি উপজেলার রাজাবাড়িয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি দোকানে বসে আছেন বৃদ্ধ আবুল কাসেম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও প্রতিদিন নিয়মিত দোকান খুলে বসেন তিনি। দোকানের ছোট ছোট কৌটায় সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তামাক ও তামাকজাত সামগ্রী। এখনো স্থানীয় কিছু বয়স্ক মানুষ তার দোকানে এসে তামাক কিনে নিয়ে যান।
আবুল কাসেম বলেন, “আগের মতো এখন আর তামাকের চাষ নেই, তেমন চাহিদাও নেই। তারপরও কিছু মানুষ এখনো হুক্কা বা ডাবা টানে। তাদের কাছেই তামাক বিক্রি করে আমার অভাবের সংসার চলে।”
তিনি জানান, একসময় গ্রামের কৃষক, শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তামাক ব্যবহার করতেন। হাটের দিনে তার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাওয়ায় তামাকের ব্যবহারও কমে গেছে। ফলে ব্যবসাও আগের মতো নেই। তবুও জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিনের পেশা ছাড়তে পারেননি তিনি।
স্থানীয়দের মতে, আবুল কাসেমের এই ছোট্ট দোকান শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আর এমন তামাকের দোকান দেখার সুযোগ পায় না।
বাজারে আসা কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “একসময় প্রায় প্রতিটি বাজারেই তামাকের দোকান ছিল। এখন আর চোখে পড়ে না। কাসেম চাচার দোকান দেখলে পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।”

সময়ের স্রোতে বহু ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও আবুল কাসেম এখনো নিজের ছোট্ট তামাকের দোকানটি টিকিয়ে রেখে অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে চলেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন