বৃহস্পতিবার,২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গৌরবে উদযাপিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ প্রধানমন্ত্রী

গৌরবে উদযাপিত, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ। একটি সুশৃঙ্খলবাহিনীর জন্য অবশ্যই এটি একটি গৌরবজনক উপলক্ষ ।  এই শুভলগ্নে আমি এই বাহিনীর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্য তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা আপনাদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ থেকে আমি তাদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।
স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছিলো।
দেশে এক অস্থিতিশীল এবং অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে
গ্রাম ও নগরপর্যায়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত  গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-ভিডিপি এবং আনসার বাহিনী একীভূত হয়ে  এই বাহিনীর কাঠামো আরও শক্তিশালী, দক্ষ এবং কার্যকর করে তলায় হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষকের এই দূরদর্শী পদক্ষেপই আনসার ও ভিডিপিকে আজকের বহুমাত্রিক, জনসম্পৃক্ত ও গণপ্রতিরক্ষায় সক্ষম বাহিনীতে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
এরপর খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনী স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো থেকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যা এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলেই  আজকের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী  একটি গণমুখী প্রতিরক্ষা শক্তি এবং প্রান্তিক সক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী
সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের সকল থানা পাহারা,
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানেও এই বাহিনী ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের মতো
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবদান রাখছে।
দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার-ভিডিপি’র যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের   দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আলোকে আপনাদের ‘ভিশন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা’/ আমি মনে করি, এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরো দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য  অনিবার্য এবং অবশ্য পালনীয় নীতি হচ্ছে,   ‘চেইন অফ কমান্ড’ এবং ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা।   এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা পরিলক্ষিত হলেও কোনো একটি বাহিনী সুশৃঙ্খলবাহিনী হয়ে উঠতে পারেনা। আপনাদেরকে এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্লিনের অভাব পরিলক্ষিত হলে
তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়, এ বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি।
আনসার ও ভিডিপি’র চারটি প্রধান স্তম্ভ— ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি… এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।
আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োজিত।   বাহিনীর ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ওবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।এই বাহিনীর ১৩ হাজারেরও বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে
সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি পুরুষ ও একটি মহিলা ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ
নানা সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে। একইভাবে, নগর এলাকায় টিডিপি সদস্যরা
শহরে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
ফলে বাহিনীটি কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আনসার ভিডিপি নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি
প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করছে যা ইতিবাচক। ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে
জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান এবং কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটেছে।
AVJOBS অর্থাৎ Ansar & VDP Job PortaL সফটওয়্যার এবং AI application ব্যবহার করে
দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগও সময়োপযোগী। একইসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রক্রিয়াধীন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে
আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ, সদস্যদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বই আমার বিশ্বাস।
মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, 6G ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক ও চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে  যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী।   এসব উদ্যোগ সরকার

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

​লামায় ইউনিয়ন পর্যায়ের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা