বাগেরহাটে এক কৃষককে তার জমিতে ধান কাটতে বাধা দিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। যারা গত নির্বাচনে বাগেরহাট-২ (সদর কচুয়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন। তাছাড়া ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র খাবারের উৎস ওই জমির ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পার নওয়াপাড়া এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পার্শ্ববর্তী আতাইকাঠী এলাকার মৃত সোলেমান তরফদারের ছেলে অজিয়ার তরফদার। সে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি। কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী সরকারের ১৭টি বছর তিনি ওই জমিতে প্রবেশ করতে পারে নাই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ওই জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করেছে। ৫ আগস্টের পরে তিনি তার জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অজিয়ার তরফদার ইউনিয়ন বিএনপি নেতা, নির্বাচনে প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। তার জমিতে চাষাবাদ করেছে, ধানের চারা লাগিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী একটি হত্যা মামলায় তিনি আসামি হয়ে এলাকা ছাড়া হলে স্থানীয় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকেরা তার জমি নিয়ে সালিশ হবে বলে তার পরিবারকে হয়রানি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে থাকা পাকা ধান জমিতেই পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে অজিয়ার তরফদারের।
তারা আরো বলেন, স্থানীয় ঘোড়া প্রতীকের মূল এজেন্ট আলতাফ মাহমুদের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাসারাত খান, এসকেন্দার খান, সেকেন্দার খান, রবিউল হাওলাদার ,মোহাম্মদ মনসুর সরদার, মাহতাব সরদার, আক্কাস আলী, সালাম সরদার ও ইমদাদুল হক সহ অনেকে অজিয়ার তরফদারের অনুপস্থিতিতে সালিশ বিচারের নামে তার জমির ধান কাটতে বাধা প্রদান করেছে।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আফসার উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খান হাফিজুর রহমান, রিয়াদুল শেখ ও রেশমা বেগমের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পরিবারের একমাত্র সম্বল ওই জমিটুকুতেই ধান ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আওয়ামী লীগের আমলে জোর করে তারা দখলে রেখেছিল। কিন্তু এ বছর সালিশ বিচারের নামে পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। মূলত ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই জমিগুলোর ধান নষ্ট করে দিয়েছে। জমিতে ধান পচে এমন দুর্গন্ধ হয়েছে রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া কষ্টকর। তদন্তপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
অজিয়ার তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ১৭ বছর বহু হামলা মামলা শিকার হয়েছি। এলাকা ছাড়া ছিলাম। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় তার লোকজন আমাকে মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামি করেছে। গ্রেফতার এড়াতে পালিয়েছিলাম। আমার অসহায় স্ত্রী ও ছোট বাচ্চাটি বহুবার তাদের কাছে ধানগুলো কাটার অনুমতি চেয়েছে কিন্তু তারা অনুমতি দেয়নি। গতকাল জামিন নিয়ে আজ জমিতে এসে দেখি জমির সকল ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তারা আমার রিযিক নষ্ট করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিচার দিলাম। অবস্থা এমন হয়েছে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। অপরাধীদের বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত অজিয়ার তরফদার।
আলতাফ মাহমুদ নামে স্থানীয় এক শালীশদার বলেন, অজিয়ার তরফদার ওইখানে এক বিঘা সম্পত্তি পাবেন । তাকে এক বিঘা জমির ধান কাটতে বলা হয়েছিল এবং বাকি জমির ধান ভাগাভাগি করে কাটতে বলা হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনি একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। এ কারণে ধান কাটতে না পেরে আমাদের দোষারোপ করছেন।