ভোলার মনপুরায় মাদক সরবরাহের সময় গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে আটক করেছে মনপুরা থানা পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মনপুরা থানা এস আই ইব্রাহীম নয়নের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিমে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সিকদারহাট-তালতলা সড়কের জাহাঙ্গীর মৃধার মুদি দোকানের সামনে সন্দেহজনক অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি অভিযানে হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজার এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মজির উদ্দিন ও রাজিব। আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশি এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ পরীক্ষা করে মোট ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালিয়ে অবশেষে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবক ও সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় পুলিশের অভিযানে দুই মাদককারবারি আটক হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মনপুরা থানা পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ৫০ গ্রামগাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তাদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এর ফলে অনেক মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে এখনও কিছু অসাধু চক্র গোপনে মাদক সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
মনপুরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের অভিযান চলমান থাকবে। মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে সাধারণ মানুষকে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে মনপুরাকে মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমানে আটক দুই মাদককারবারি ভোলা জেলা কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




