রাঙ্গাবালীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের সংকট, পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারছে না শিক্ষার্থীরা

উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) বিভাগ না থাকায় পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কোথাও বিভাগের অনুমোদন নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে অন্য বিভাগে ভর্তি হতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি বিভাগে পাঠদানের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু রাঙ্গাবালীর বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ নেই। ফলে এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী অনেক শিক্ষার্থী নিজ উপজেলায় সেই সুযোগ পাচ্ছে না।
বড়বাইশদিয়া এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে পড়তে পারছে না। বিভাগটি চালু হলে অনেক শিক্ষার্থী এতে ভর্তি হতে আগ্রহী হবে বলে তাদের বিশ্বাস। তারা দ্রুত বিভাগটি চালুর দাবি জানিয়েছে।
বড়বাইশদিয়া এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব হোসাইন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন নেই। আবার শিক্ষার্থী সংখ্যাও কম। এ কারণে বিভাগটি চালু করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে অনুমোদন থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় সেখানেও কার্যক্রম নিয়মিত নয়।
রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদী কুমার বাহাদুর বলেন, শিক্ষার্থী কম থাকায় উপজেলায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে কোনো বিদ্যালয় থেকে চাহিদা এলে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা পর্যাপ্ত হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং, হিসাববিজ্ঞান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসা–বাণিজ্যসংক্রান্ত উচ্চশিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের গুরুত্ব বেড়েছে। অথচ রাঙ্গাবালীর শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, বিভাগ অনুমোদন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্বীপাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে তারা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”