জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চোর সন্দেহে দুই অসহায় যুবককে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্মম সেই নির্যাতনের শিকার হয়ে লাল বাদশা (১৮) নামে এক তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর বন্ধু মাইদুল (১৭)। নিহত ও আহত দুজনই শারীরিক ও মানসিকভাবে আংশিক প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার একটি মাঠের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় দুই যুবককে। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাল বাদশাকে মৃত এবং মাইদুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
নিহত লাল বাদশা উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের জামালের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং চোখেও কম দেখতেন। অপরদিকে আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে। স্বজনদের ভাষ্য, তাঁরও মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আহত মাইদুল জানান, জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি তেলের পাম্পের কাছ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ডেকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ওপর চালানো হয় নির্মম মারধর ও নির্যাতন। তারপর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলে তারা বাড়ীর দিকে রওনা দেয় কিন্তু আবারো রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করা হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে একজন লাল বাদশার বুকে লাথি মারে একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে গভীর রাতে একটি মাঠের পাশে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।
মাইদুল বলেন, “ওরা আমাদের খুব মারধর করেছে। পরে মাঠের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি তাদের নাম জানি না, তবে দেখলে চিনতে পারব।” এবং তাদের বাড়িও দেখে দিতে পারব।
স্থানীয়দের ধারণা, চোর সন্দেহে তাদের আটক করে মার-পিট করা হয়ে থাকতে পারে । তবে তারা আদৌ কোনো চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনো অভিযোগ থেকেও থাকে, তাহলে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে দুই অসহায় যুবকের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানোর অধিকার কারও নেই। একজন প্রাণ হারিয়েছেন, আরেকজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন—এ দায় কে নেবে?
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে মৃত ও অন্যজনকে জীবিত উদ্ধার করে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। আহত মাইদুলের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য সূত্র যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে নিহত লাল বাদশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




